পহেলা বৈশাখ আর আপনি ঘর থেকে বের হবেন না- তা কি ঠিক? একদমই না। বাংলা বছরের প্রথম মাস বৈশাখ, আর এই বৈশাখেই পড়ে বছরের সবচেয়ে বেশি গরম। তাই তো কবি বলেছেন- “ঘাম ঝরে দরদর, গ্রীষ্মের দুপুরে”।
এই গ্রীষ্মকালকে মাথায় রেখে পহেলা বৈশাখের খাবার-দাবারে আনতে পারেন ভিন্নতা ও সচেতনতা। ঐতিহ্য আর স্বাস্থ্যের সমন্বয়েই হোক আপনার নববর্ষের আয়োজন।

পান্তা-ইলিশ বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। “মাছে-ভাতে বাঙালি”- এই পরিচয়ের প্রথম দিনটি অনেকেই শুরু করেন পান্তা-ইলিশ দিয়ে। তবে এক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাসি পান্তা ভাতের বদলে আনা যেতে পারে সামান্য পরিবর্তন। কারণ হুট করে বাসি ভাত অনেক সময় পেট ব্যথা বা গ্যাসের কারণ হতে পারে। তাই ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতে কিছুটা ঠান্ডা পানি মিশিয়ে সহজেই তৈরি করতে পারেন স্বাস্থ্যসম্মত পান্তা ভাত। এতে ভাত বাসি হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে না, আবার স্বাদও বজায় থাকবে।
অনেকেই পান্তা ভাতের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা খেয়ে থাকেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বছরের প্রথম দিনটিতে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে। এ সময় অতিরিক্ত ঝাল মরিচ দিয়ে তৈরি ভর্তা শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই ভর্তার পরিবর্তে রাখতে পারেন হালকা ভাজি, সেদ্ধ বা কম মসলাযুক্ত মাছ ও সবজি। এতে খাবারে যেমন বৈচিত্র্য আসবে, তেমনি শরীরও থাকবে স্বস্তিতে।

মাছে-ভাতে বাঙালির খাবারের টেবিলে শুধু ইলিশই থাকতে হবে- এই ধারণা থেকেও বের হয়ে আসা জরুরি। ইলিশের পরিবর্তে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, কৈ, পাবদা- এ ধরনের যেকোনো মাছই হতে পারে আপনার সাধ্যের মধ্যে স্বাস্থ্যকর পছন্দ। পাশাপাশি বিভিন্ন শাক-সবজি ও কাঁচা আমের টক শরীরকে শীতল রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
পহেলা বৈশাখ মানেই বাইরে ঘুরে বেড়ানো, মেলা, শোভাযাত্রা- সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর দিন। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করুন। তীব্র গরমে পানি শূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা স্যালাইনকে প্রাধান্য দিন। সঙ্গে রাখুন এক বোতল পানি- এটি ছোট একটি অভ্যাস হলেও আপনার শরীরকে রাখবে সুরক্ষিত।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সচেতনতা বজায় রেখে উপভোগ করুন সবার প্রাণের উৎসব- পহেলা বৈশাখ। আনন্দ হোক, তবে তা যেন হয় সুস্থতার সঙ্গে।