শেয়ার করুন

|

নগরকথা ডেস্ক

সিলেট ও চট্টগ্রামের লোকেরা ইফতারে কেন খিচুড়ি খান

প্রকাশ:

১৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৮

শেয়ার করুন

|

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইফতারের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছোলা-মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি কিংবা জিলাপির দেখা মিললেও সিলেট ও চট্টগ্রামে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। এই দুই অঞ্চলের মানুষ ইফতারে খিচুড়িকে প্রাধান্য দেন। যা শুধু খাবার নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

বিশেষ করে রমজান মাসে সিলেট ও চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে বিকেলের আগেই শুরু হয় খিচুড়ি রান্নার প্রস্তুতি। ডাল, চাল, মাংস বা ডিম, আর সঙ্গে নানা ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি এই খিচুড়ি ইফতারের সময় পরিবারে এনে দেয় ভিন্ন এক স্বাদ ও তৃপ্তি। অনেকেই মনে করেন, সারাদিন রোজা রাখার পর খিচুড়ি শরীরের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি পেট ভরানোর জন্যও উপযুক্ত। সিলেটে আবার মাংস দিয়ে প্রস্তুতকৃত আখনি ভীষণ জনপ্রিয়। তবে খিচুড়ির প্রচলনই বেশি।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এই অঞ্চলে খিচুড়ি খাওয়ার প্রচলন নতুন নয়। সিলেট ও চট্টগ্রামের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আর্দ্র এবং বর্ষাপ্রবণ হওয়ায় এখানকার মানুষ বরাবরই গরম, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবারের দিকে ঝুঁকেছেন। খিচুড়ি সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ইফতারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, খিচুড়ি রান্না করা যেমন সহজ, তেমনি এটি একসঙ্গে অনেক মানুষের জন্য প্রস্তুত করা যায়। ফলে পরিবার ছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনেও খিচুড়ি ইফতার হিসেবে জনপ্রিয়। অনেক এলাকায় দেখা যায়, ইফতারের আগে বড় বড় হাঁড়িতে খিচুড়ি রান্না করে তা অসহায় ও পথচারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

অন্যদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছোলা-মুড়ি বা ভাজাপোড়া খাবারের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে সহজলভ্যতা ও দ্রুত প্রস্তুতির সুবিধা। তবে পুষ্টিগুণের দিক থেকে খিচুড়ি অনেক বেশি সমৃদ্ধ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়।

চট্টগ্রামের বাসিন্দারা আবার খিচুড়ির সঙ্গে গরু বা মুরগির মাংস, কখনো শুঁটকি বা ভর্তা যোগ করে স্বাদ বাড়ান। সিলেটে খিচুড়ি বা আখনির সঙ্গে লেবু, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ এবং বিশেষ ধরনের আচার পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে। ফলে অঞ্চলভেদে খিচুড়ির স্বাদেও আসে বৈচিত্র্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভারী ও ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে খিচুড়ির মতো সুষম খাদ্য গ্রহণ শরীরের জন্য বেশি উপকারী। তাই ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ইফতারে খিচুড়ির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সিলেট ও চট্টগ্রামের ইফতারে খিচুড়ি শুধুমাত্র একটি খাবার নয়; এটি একটি ঐতিহ্য, একটি সংস্কৃতি, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং রমজানের আবহকে করে তোলে আরও সমৃদ্ধ।

এই সাইটটি সুরক্ষা দেয় reCAPTCHA ও Google এর গোপনীয়তা নীতি এবং নীতিমালা প্রযোজ্য।

শেয়ার

নিয়ে আরও পড়ুন

শেয়ার করুন

কপি করুন

কপি করুন