ইরান-ইসরাইল সংঘাতে প্রাণ হারানো সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আহম্মেদ আলীর মরদেশ সিলেট এসে পৌঁছেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তার মরদেহ বহনকারী বিমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় নিহতের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
নিহত আহম্মেদ আলী আরব আমিরাতে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রবাসী জীবন পার করছিলেন। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখার গাজীটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে। তার মা, চার সন্তান এবং স্ত্রী রয়েছেন। সম্প্রতি বড় ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কথা ভাবছিলেন। নতুন বাড়ি নির্মাণেরও পরিকল্পনা ছিল। তবে সব কাজ বাকি রেখে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি আরব আমিরাতের আজমান শহরে মারা যান আহম্মেদ আলী। বাড়ি নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ৪ মাস আগে আরব আমিরাত ফিরে যান। আর ফেরা হয়নি বাড়ি। আরিফুল হক চৌধুরী মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ক্রাইসিস টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যারা বাসা থেকে বের হতে পারছেন না, তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রবাসীদের উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রবাসীদের সুরক্ষা ও সহায়তায় যা যা দরকার, সরকার সেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি তিন প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনার জন্য কাজ চলছে।