ঈদুল ফিতর ঘিরে যখন সিলেট অঞ্চলে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ই প্রকৃতির খেয়ালে বৃষ্টির দাপটে ভিজছে পুরো অঞ্চল। তবে স্বস্তির খবর হলো—ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা।
দেশে প্রবেশ করেছে বছরের প্রথম প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’, যার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত থেকেই দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চল দিয়ে এই বৃষ্টিবলয়টি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরই প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, আংশিক এই বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে তুলনামূলক বেশি সময় ধরে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি রমজানের ২৮ তারিখ পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ২৯ রমজানের পর বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং এরপর কয়েকদিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত নাও হতে পারে। ফলে ঈদের দিন আবহাওয়া তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
শুধু সিলেট ও ময়মনসিংহ নয়, এই বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলেও ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের খোলা মাঠে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়টিতে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।