এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এবার থেকে আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে নেওয়া হচ্ছে বহুমুখী উদ্যোগ, পাশাপাশি মূল্যায়নেও আসছে বড় পরিবর্তন- শিক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই দেওয়া হবে নম্বর; কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অতিরিক্ত নম্বরের সুযোগ থাকছে না।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রই এই নজরদারির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘লাইভ মনিটরিং’ চালু করে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা হবে।
প্রয়োজনে আবারও চালু হতে পারে আলোচিত ‘হেলিকপ্টার মিশন’। যেকোনো সময় দেশের যেকোনো কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শনে যেতে পারবেন মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের দল। এর আগে ২০০১-২০০৬ সময়ে এই পদ্ধতির মাধ্যমে নকল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর আগে প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যানদের কেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এবারের বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে- অতি প্রয়োজন ছাড়া ‘ভেন্যু কেন্দ্র’ বাতিল, পরীক্ষাকেন্দ্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, খাতা মূল্যায়নে অনুকম্পা বা অতিরিক্ত নম্বর প্রদান বন্ধ, এইচএসসি থেকে সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর সিদ্ধান্ত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে জানিয়েছে, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুধু শিক্ষার্থী নয়, দায়িত্বরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আনা হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে প্রতারণা চালানো চক্রের বিরুদ্ধেও বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল ও কিছু মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে নকলের প্রবণতা বেশি থাকায় এসব স্থানে বাড়তি নজরদারি থাকবে। গোপন পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব কেন্দ্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হচ্ছে, যেখান থেকে সব শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাও যুক্ত থাকবে এই তদারকিতে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিষয় সংখ্যা কমানোর সম্ভাব্যতাও খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।