২৩০-২৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সিঙ্গেল লাইন। এই লাইন যেন সিলেটে আসা-যাওয়া করা রেল যাত্রীদের দুর্ভোগের আরেক নাম। সিলেটের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ দিন দিন অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রুটগুলোতে ঘন ঘন ট্রেন বিকল, শিডিউল বিপর্যয় এবং পুরনো লোকোমোটিভের ব্যবহার যাত্রীদের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষ করে সিলেট-ঢাকা ও ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন—পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং কালনী এক্সপ্রেস—প্রায়ই নির্ধারিত সময় মেনে চলতে পারে না। মাঝপথে ট্রেন বিকল হয়ে পড়ার ঘটনাও এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
একই অবস্থা সিলেট-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটেও। পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোও নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত। লোকোশেডে প্রস্তুত লোকো না থাকায় বিকল হওয়া ট্রেনগুলো উদ্ধারেও লাগছে অনেক বেশি সময়।
রেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই রুটগুলোতে এখনও পুরনো আমলের পুরনো লোকোমোটিভ দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন লোকো বা আধুনিক ট্রেন সংযোজনের উদ্যোগ খুবই সীমিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোকোশেডে ব্যাকআপ লোকোমোটিভের অভাব। ফলে একটি ট্রেন বিকল হয়ে পড়লে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
অন্যদিকে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্টপেজও শিডিউল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছোট ছোট স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রাবিরতির কারণে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়ে।
যাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, “টিকিট কেটে ট্রেনে উঠেও নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। কখন কোথায় ট্রেন থেমে যায়, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।” নিয়মিত যাতায়াতকারী অনেকেই বিকল্প হিসেবে সড়কপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নতুন লোকোমোটিভ সংযোজন, ব্যাকআপ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং অপ্রয়োজনীয় স্টপেজ কমানো না গেলে সিলেটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেট অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।