জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের মোটরসাইকেল বাজারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মোটরসাইকেল বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ডিলাররা। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন অফার দেওয়া হয়েছে মোটরসাইকেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও তাতেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া মিলছে না।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বেড়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতে মোটরসাইকেল ব্যবহারের খরচ অনেকটাই বেড়েছে। এতে নতুন করে মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই।
রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলার শোরুমগুলোতে আগের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। বিক্রেতাদের মতে, আগে যেখানে প্রতিদিন একাধিক ইউনিট বিক্রি হতো, এখন সেখানে অনেক দিন একটি মোটরসাইকেলও বিক্রি হচ্ছে না। আবার বেশিরভাগ ক্রেতা মাইলেজের বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
একাধিক ডিলার জানান, কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার প্রবণতাও কমেছে। কারণ, ক্রেতারা এখন মাসিক কিস্তির পাশাপাশি বাড়তি জ্বালানি খরচ বহন করতে অনাগ্রহী।
এদিকে, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরাও পড়েছেন চাপে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইক ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে গণপরিবহন বা রাইড শেয়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন।
অটোমোবাইল খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু জ্বালানি তেলের দাম নয়, ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ায় মোটরসাইকেলের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বাজারে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে-একদিকে ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে ব্যবহার খরচ বাড়া।
বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এই খাতের প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সহজ কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মোটরসাইকেল বিক্রি আবারও বাড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।