বাংলার ঐতিহ্যবাহী রান্নার তালিকায় পাতুরি এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। আর সেই পাতুরিতে যদি যোগ হয় নোনা ইলিশের স্বাদ, তাহলে তো কথাই নেই। পুঁইশাকের নরম পাতায় মোড়ানো এই ব্যতিক্রমী রেসিপিটি ঘরোয়া আয়োজনেও এনে দিতে পারে গ্রামবাংলার আসল আমেজ।
উপকরণ
- পুঁইশাক – ১০/১২টি পাতা
- সাদা তিল – ২৫০ গ্রাম
- নোনা ইলিশ – ২ পিস
- সয়াবিন তেল – ১ কাপ
- লবণ, হলুদ, মরিচ গুঁড়া – ১ টেবিল চামচ
- আদা, রসুন, পেঁয়াজ বাটা – আধা চা চামচ
- পেঁয়াজ কুচি – ৫টি
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে পুঁইশাকের ডাঁটা ফেলে বড় বড় পাতাগুলো আলাদা করে বেছে নিন। ভালোভাবে ধুয়ে একটি পাতিলে নিয়ে ১ মিনিট ভাপ দিন। এতে পাতাগুলো নরম হবে, যা পাতুরি তৈরির জন্য খুবই জরুরি।
এবার পুর তৈরির পালা। সাদা তিল তাওয়ায় হালকা ভেজে বেটে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি, বাটা মশলা ও গুঁড়া মশলা দিয়ে ১–২ মিনিট কষিয়ে নিন। এরপর এতে বাটা তিল যোগ করে আরও ৪–৫ মিনিট রান্না করে নামিয়ে রাখুন।
এখন নোনা ইলিশের টুকরোগুলো ছোট ছোট করে কেটে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। অন্য একটি কড়াইয়ে সামান্য তেলে হালকা আঁচে লালচে করে ভেজে তুলে রাখুন।
পুর ও ইলিশ ঠান্ডা হলে পাতুরি তৈরির কাজ শুরু করুন। দুটি ভাপানো পুঁইশাকের পাতা পাশাপাশি বিছিয়ে তাতে তিলের পুর ও একটি ইলিশের টুকরো দিন। এরপর পাতাগুলো রোলের মতো করে চারপাশ থেকে মুড়িয়ে নিন। এভাবে সবগুলো পাতুরি তৈরি করুন।
সবশেষে একটি ফ্রাইংপ্যানে অল্প তেল গরম করে পাতুরিগুলো এপিঠ-ওপিঠ করে বাদামী রং হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন।
পরিবেশন
গরম গরম পরিবেশন করুন সুস্বাদু নোনা ইলিশের পাতুরি। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য আর ঘরোয়া স্বাদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই পদটি, যা যে কোনো ভোজনরসিকের মন জয় করতে বাধ্য।